শ্রেনী: ষষ্ঠ
বিষয়: গাইস্থ অর্থনীতি
বর্তমানে যেহেতু কোভিড পরিস্থিতিতে আমার ঘরের বাইরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাই এই সময় টাকে আমি কাজে লাগাতে চাই। আমার আনন্দ পাওয়ার | জন্য আমার বাড়ির আঙিনায় আমি বাগান তৈরী করতে চাই। এতে মানসিক । প্রশান্তি লাভ করা যায়। আমার লক্ষ্য অর্জন করার জন্য অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আমাদের যে সম্পদ। | আছে তার ব্যবহার, পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাকে এক কথায় | গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে। গৃহ ব্যবস্থাপনার স্তরগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হয়। নিচে। তা চিত্রের মাধ্যমে দেখানাে হলাে।
পরিকল্পনা:
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ হলো পরিকল্পনা প্রণয়ন। কোন কাজ করতে গেলে কাজটি কেন করা হবে? কিভাবে করতে হবে? ইত্যাদি চিন্তা ভাবনা করার নামই পরিকল্পনা। পরিকল্পনা কে অনুসরণ করলে পরবর্তী কাজগুলো সহজ হবে। আমি যেহেতু বাগান করতে চাই তার জন্য অবশ্যই একটি পূর্ব-পরিকল্পনার রাখতে হবে। আমি কোথায় বাগান করব? কিভাবে করব? বাগান করার সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখে একটা পরিকল্পনা করব। সেই সাথে আমি ঠিক করে নিব আমি বাগানে কোন কোন গাছ লাগাব। আমার কখনো বাগান করার সুযোগ আসলে আমি বাগানটিতে গোলাপ, টগর, লেবু গাছ, পেয়ারা গাছ, বেগুন গাছ ও শসা গাছ লাগাবো।।
সংগঠন:
পরিকল্পনা মাফিক বিভিন্ন কাজের সংযোগ সাধন করার নামই সংগঠন। কোন স্তরে কোন কাজ করলে ভালো হবে? কোন কাজে কাকে নিয়োজিত করা হবে? কি কি সম্পদ ব্যবহার করা হবে?- এসব বিষয় ঠিক করা হয়। আমার বাগান করার ক্ষেত্রে কি কি সম্পদ ব্যবহার করব সেটা ঠিক করবাে। যেহেতু এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব না তাই কাকে নিয়োজিত করতে পারি, সেসব আগে থেকেই ঠিক করে নিব। এতে আমার পরিকল্পনা কাজের বাস্তবায়ন সহজতর হবে। এক্ষেত্রে আমি সিদ্ধান্ত নিব যে আমি কোন কোন সম্পদ ব্যবহার করব। যেমন- পরিশ্রম, সময়, শক্তি, জ্ঞান, দক্ষতা, অর্থ এবং ভূমি।
নিয়ন্ত্রণ:
গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করে তােলা কে নিয়ন্ত্রণ বলে। গৃহ ব্যবস্থাপনা তৃতীয় এ স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা যতই ভালো হোক তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে কখনই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। নিয়ন্ত্রণ কয়েকটি স্তরে করে কাজ করে। প্রথম পর্যায়ে কাজে সক্রিয় হতে হবে। তাহলে উদ্যোগ নিয়ে কাজটি শুরু করা যাবে। বাগান করার ক্ষেত্রে কে কি কাজ করব? কিভাবে করব? তা ঠিক করে রাখব। তাহলে কাজ শুরু করা সহজ হবে। আমি বাগান করার জন্য মাটি খনন করব। তারপর চারপাশে বেড়া দিব। তারপর সবাই মিলে বিভিন্ন ধরনের ফল, ফুল এবং বিভিন্ন ধরণের সবজি গাছ লাগাব। দ্বিতীয় পর্যায়ে সবার কাজের অগ্রগতি লক্ষ্য করব। ঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করব। তৃতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করব। যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে গৃহীত পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।
মূল্যায়ন:
গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ ধাপ হলো মূল্যায়ন। বাগান করার সময় যে গাছ গুলো লাগিয়েছি সেগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কিনা বা ফল বা ফুল দেওয়ার উপযোগী কিনা। তা যাচাই করব। কোন কাজ সম্পন্ন করে এর ফলাফল যাচাই করার নামই হলো মূল্যায়ন। যদি ফলাফল ভালো আসে তাহলে লক্ষ্য অর্জিত হল। আর যদি লক্ষ্য অর্জন না হয় তবে কোথায় ভুল হয়েছে বা ব্যর্থতার কারণ নির্ণয় করে তা সংশােধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।।
বাগান তৈরির মাধ্যমে আমি যেভাবে লাভবান হতে পারি তা নিচে বর্ণনা করা। হলো বাগান তৈরি করার ফলে বাসায় বসে বসে যে একঘেয়েমি ভাব চলে আসল সেটা দূর হবে। এছাড়া বাগানের বিভিন্ন ফুল, ফল ও গাছ গুলো মানসিক প্রশান্তি প্রদান। করবে। বাগানে লাগানো ফল গাছগুলো বিভিন্ন ঋতুতে সুমিষ্ট ও স্বাস্থ্যকর ফল। দিবে; যা আমাদের ক্ষুধা মেটাতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি । করবে। এভাবে আমি বাগান তৈরির মাধ্যমে আমি যে ভাবে লাভবান হতে। পারি।

0 Comments
Thanks for your viewing