৯ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট
বাংলা ১ম সপ্তাহ ২০২১ সমাধান
স্বশিক্ষা অর্জনে বই পড়ার গুরুত্ব
স্বশিক্ষা অর্জনে বই পড়ার গুরুত্ব
বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক টলস্টয় এর একটি বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে "জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়ােজন বই বই এবং বই। আসলে টলস্টয় ই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেই অতি প্রয়ােজনীয় জিনিসটির। বই আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বলা হয়ে থাকে যে "আপনি যখন একটি বই খুলবেন, আপনি একটি নতুন বিশ্ব খুলবেন"। আমি বিশ্বাস করি যে বই মানবজাতির জণ্য অনিবার্য হয়ে উঠায় সবাই এই বিবৃতিতে একমত হবেন। বেশিরভাগ মানুষের কাছে বইগুলি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। একটি বই একজন সেরা বন্ধুর মতো যা আপনার কাছ থেকে কখনও দূরে সরে যাবে না। বিখ্যাত লেখক, কবিরা তাদের সমস্ত আবেগ, চিন্তাভাবনা এবং অভিজ্ঞতা পুস্তকআবদ্ধ করেছেন যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী হয়ে রবে। বইগুলির ধন অক্ষয়, কারণ তারা ক্রমাগত আমাদের জন্য শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং দর্শনের সােনার সন্ধান করে। বই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জ্ঞান দেয় যা শেষ পর্যন্তু সভ্যতার অগ্রযাত্রায় সহায়তা করে। বই জ্ঞান দিয়ে ভরপুর, একটি সুখী জীবনের অন্তর্দৃষ্টি, জীবনের পাঠ, প্রেম, ভয়, প্রার্থনা এবং সহায়ক পরামর্শ। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি বুদ্ধিজীবীরা যদি তাদের জ্ঞানগুলাে নথিভুক্ত না করতেন তবে কী হত?সেগুলি ছাড়া আজকে আমরা কিই বা জানতাম। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা নিজেকে নতুন জিনিস, নতুন তথ্য, নতুন ধারণা, কোনও সমস্যা সমাধানের নতুন উপায়, নিজেকে উন্নত করা, কল্পনাশক্তিকে উন্নত করতে এবং লক্ষ্য অর্জনের নতুন উপায় খুজে পেতে পারি।। যই আপনাকে শখগুলি আবিষ্কার করতে বা আপিনি পছন্দ করেন না এমন জিনিসগুলি অন্বেষণে সহায়তা করতে পারে।
স্ব-উন্নতি বই পড়া থেকে শুরু হয়, বই পড়ার মাধ্যমে আপনার ভবিষ্যতে আরও ভাল বােঝার এবং আরও ভাল সিদ্ধান্ত নেওয়া সুযােগ তৈরি হয়। তাই বলা যায় যে "আপনি যত বেশি পড়বেন, তত বেশি পড়াবেন"। বই বিহীন একটি বাড়িকে জানালা বিহীন একটি বাড়ির সাথে তুলনা করা যায়।
কিন্তু সেই বইকে আলমারিতে আবদ্ধ করে রাখলে হবেনা। বইক পড়তে হবে এবং এর মধ্যকার রস আস্বাদন করতে হবে। তবেই একজন ব্যক্তি শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারবে। তাইতাে প্রমথ চৌধুরী তার বই পড়া পবন্ধে বলেছেন ''লু-শিক্ষিত লােক মাত্রই সুশিক্ষিত'। আমাদের জ্ঞানচর্চায় অনভ্যাস যে শিক্ষাব্যবস্থার তুটির জন্য ঘটছে তা সহজেই লক্ষনীয়। আর্থিক অনটনের কারণে অর্থকরী নয় এমন সবকিছুই এদেশে অনর্থক বলে বিবেচনা করা হয়। সেজন্য বই পড়ার প্রতি লােকের অনীহা দেখা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া প্রয়ােজন। যথাথ শিক্ষিত হতে হলে আমাদের মনের প্রসার দরকার। তার জন্য বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। এর জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়ােজন।
বই-ই হচ্ছে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। যার সাথে পার্থির কোনাে সম্পদের তুলনা হতে পারে না। একদিন হয়তাে পার্থিব সব সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু একটি ভালাে বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনাে নিঃশেষ হবে না, তা চিরকাল হৃদয় জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানাের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মনকে সুস্থ ও আনন্দিত রাখতে পারি। একটি ভালাে বই মানুষের মনের চোখ যেমন খুলে দেয় তেমনি জ্ঞান ও বুদ্ধিকে প্রসারিত
এবং বিকশিত করে মনের ভিতর আলাে জ্ঞালাতে সাহায্য করে। লাইব্রেরীতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী,বই পড়ে যথার্থ শিক্ষিত হয় উঠতে পারা যায়। প্রগতিশীল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সাহিত্য চর্চা করা ত্যাবশ্যক। কেননা, সাহিত্যচর্চা হচ্ছে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ। আর সাহিত্য চর্চা করার জন্যই তাদেরকে বই পড়তে হবে। একই সাথে লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠা আবশ্যক । বইয়ের ভেতরে থাকে জ্ঞান অজানা তথ্যের ভান্ডার। যখন আমরা বই পড়বাে তখন বইটির ভিতরে থাকা নানা জ্ঞান আমাদের শিক্ষিত করে তুলবে। নন-ফিকশন, বই ই পারে একজন মানুষকে যথার্থ জ্ঞানবান বানাতে। আর জ্ঞান সবসময় একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে। বই নতুনভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ও মস্তিষ্ককে চিন্তা করতে উপযােগী করে গড়ে তােলে।
TL
।

0 Comments
Thanks for your viewing